"ঝরাফুল" পরিবারের তৃপ্তিত কিছু দিনের গল্প





                       "ঝরাফুল" পরিবারের তৃপ্তিত কিছু দিনের গল্প



"ঝরাফুলসমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন 'মানবতা  সেবায় আমরাএই স্লোগানকে প্রতিপাদ্য  বুকে ধারণ করে একঝাক তরুণ সেচ্ছাসেবী ২০১৭ সালের ১লা ডিসেম্বর থেকে অসহায়  সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে নিয়মিত।  সকল ধর্মগ্রন্থেই মানুষকে ভালোবাসা  মানবসেবার কথা বলা হয়েছে। তাই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবা  অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে "ঝরাফুলপরিবার ১লা ডিসেম্বর ২০১৭ প্রথম আয়োজন করে 'অসহায়  সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে    


আয়োজনটি করা হয়েছিল নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নারান্দী গ্রামে। সেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত ১৩২ জন অসহায় শীতার্ত মানুষের হাতে তুলে দেয়া হয় একটি কম্বল  একটি করে পেট্রোলিয়াম জেলী।



















আমাদের ২য় আয়োজন ছিল একটু ব্যতিক্রম  জাঁকজমকপুর্ণ।  ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ঢাকার ধানমন্ডি লেকে আমাদেরই এক শুভাকাঙ্ক্ষীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন করা হয় " শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা  পুরস্কার বিতরণ"


লাল সবুজ ফাউন্ডেশন এবং আগামীর বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্কুলের মোট ৫০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছবি আকার উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং ছবি আকার জন্য ঘন্টা সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়।  ছবি আকা শেষ হলে বিচারক প্যানেলের মাধ্যমে যাচাই বাছাই পূর্বক বয়স অনুযায়ী শিশুদেরকে তিনগ্রুপে ভাগ করে মোট জন বিজয়ী প্রতিযোগীকে আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান সকল অংশগ্রহণকারী শিশুকে একটি করে পেন্সিল বক্স উপহার দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানের মাঝে ছিল শিশুদের গাওয়া গান কবিতা পাঠের আয়োজন। সর্বশেষ আমন্ত্রিত  অতিথীবৃন্দ,সেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণকারী সকলকে নিয়ে কেক কাটা হয় সবার মাঝে কেক এবং দুপুরের খাবার বিতরণের মাধ্যমে একটি মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।



তৃতীয় আয়োজন ছিল ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, "সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ" মালিবাগ রেলগেট থেকে খিলগাঁও রেলগেট সংলগ্ন পথের দুইপাশের খুপড়ি ঘরগুলোতে শীতাচ্ছন্ন মধ্যরাতে পৌঁছে দেয়া হয় বিভিন্নজনের নিকট থেকে সংগ্রহ করা শীতের পুরানো কাপড় প্রচন্ড শীতে কস্ট পাওয়া অনেক অসহায় সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যগণ তাৎক্ষনিকভাবে শীত নিবারণের একমাত্র অবলম্বন হিসাবে আমাদের দেয়া কাপড়গুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে উৎসাহিত  অনুপ্রাণিত করেন।





আমাদের চতুর্থ আয়োজনের দিনটি সমগ্র বাঙালী জাতির এক অন্যরকম সার্বজনীন আনন্দ উৎসবের দিন। আমাদের জন্যও দিনটি ছিল অসাধারণ আনন্দ তৃপ্তিময়,স্মৃতির পাতায় চিরদিনের 
 জন্য গেঁথে রাখার মতই একটি দিন।

১৪ এপ্রিল ২০১৮, ১লা বৈশাখ উপলক্ষে হাজারীবাগ,বটতলায় বাটারফ্লাই স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে স্কুলের প্রাঙ্গণেই প্যান্ডেল তৈরী করে আয়োজন করা হয় "সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে বাংলা নববর্ষ উৎযাপন ১৪২৫"


বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে দেয়া হয় নতুন জামা ঐতিহ্যবাহী বাংলা চিরায়ত বৈশাখী খাবার যেমন
বাতাসা,কদমা,মুরালী,চিনির তৈরী হাতি-ঘোড়া চিনির মিষ্টি সহ আরো অনেক মজাদার খাবার।  এছাড়াও সকল শিশুর হাতে  উপহার হিসাবে তুলে দেয়া হয় ডুগডুগি হাতপাখা। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল ডুগডুগির মনোমুগ্ধকর ডুগডুগ আয়োজন,শিশুদের কবিতা পাঠ,গান নাচের প্রতিযোগিতা। আমরা অবাক হয়েছি সুবিধাবঞ্চিত হওয়া সত্ত্বেও ওদের এমন অসাধারণ প্রতিভা দেখে।

এরপরে দেখতে দেখতে পবিত্র মাহে রমজানের রোজা শুরু হয়ে গেল। রমজান উপলক্ষে প্রায় সবার ঘরেই তৈরী হয় বাহারী ইফতার সামগ্রীতবুও আমাদের সমাজে এমনও অনেক পরিবার আছে যাদের ইফতারে বাড়তি আয়োজন তো দূরের কথা নিয়মিত খাবার যোগানই কষ্টসাধ্য।
এমনই কিছু সুবিধাবঞ্চিত শিশু  'আশার আলো শিশু শিখন কেন্দ্রেরশিক্ষার্থীদের নিয়ে ১লা জুন ২০১৮ তারিখে আয়োজন করা হয় "সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ইদ উপহার  ইফতার আয়োজন"













রায়ের বাজারের বাড়ৈখালিতে পঞ্চম আয়োজনের সেই দিনটিও ছিল অন্তত আনন্দমুখর।
"
ঝরাফুল" পরিবারের একজন সদস্যের সন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সবাইকে নিয়ে কেক কাটা কেক বিতরণ করা হয়,সেই সাথে সন্মানিত অতিথী,সেচ্ছাসেবী, অভিভাবক শিশুসহ সকলের জন্য বিভিন্ন রকমের ইফতার সামগ্রীর আয়োজন করা হয় এবং ৮৪ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে ইদ উপহার হিসাবে তুলে দেয়া হয় উন্নতমানের ইদের নতুন জামাকাপড়।
ইদের নতুন কাপড় পেয়ে খুশিতে শিশুদের আনন্দমিশ্রিত হাসিমুখের সেই ছবি  পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরতম মুখের প্রতিচ্ছবি।


আমাদের ৬ষ্ঠ আয়োজন  জুন ২০১৮ তারিখে সুবিধাবঞ্চিত শিশু  পরিবারের মাঝে ইদ সামগ্রী প্রদান। হাজারীবাগ বটতলা বাটারফ্লাই স্কুলের  সুবিধাবঞ্চিত ৩৮ জন শিশু  তাদের পরিবারকে  পবিত্র ঈদ-উলফিতরের বাজার হিসাবে তুলে দেয়া হয় পোলাও এর চাল,চিনি,সেমাই,দুধ,নুডুলস  পেয়াজমরিচসহ  থেকে  সদস্যের প্রতি পরিবারের ইদের খাবার রান্নার প্রয়োজনীয় ১০ রকমের বাজার সামগ্রী



সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে "ঝরাফুল" এর অসহায় পরিবারের দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান বাস্তবায়ন প্রকল্পের আওতায় একজন অসহায় পঙ্গু লোকের দীর্ঘমেয়াদী  কর্মসংস্থান পরিবারের ভরণ পোষণে স্থায়ী অর্থসংস্থানের জন্য তাকে কিনে দেওয়া হয়েছে একটি নতুন রিক্সা।
আমরা আশাবাদী নতুন রিক্সাটির মাধ্যমে উপার্জিত  অর্থ পঙ্গু ব্যক্তিটিসহ
তার পরিবারের স্থায়ী অর্থসংস্থামে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আমাদের এই ভিন্নধর্মী কাজের অনুপ্রেরণায় বিশেষ সহায়তা করেছেন "ঝরাফুল" এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য,কচিপাতা ম্যাগাজিনের সম্পাদক আমাদের প্রিয়মুখ আলেয়া আপু।



আগামী ২রা নভেম্বর ২০১৮ তারিখে "ঝরাফুল" এর 'অসহায় পরিবারের আশ্রায়ন প্রকল্পের' আওতায় ট্রেন দূর্ঘটনায় নিহত নরসিংদী জেলার নারান্দী গ্রামের মৃত নাইমুদ্দিন খামারীর অসহায় পরিবারকের বসবাসের জন্য নতুন ঘর নির্মাণে সহযোগীতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
মৃত ব্যক্তিটির জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল স্ত্রী দুই কন্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করার জন্য একটি নতুন ঘর তৈরীর। মৃত ব্যক্তিটির স্বপ্ন বাস্তবায়ন অসহায় পরিবারের অবলম্বন হিসাবে গ্রামবাসীর সাথে "ঝরাফুল" পরিবারও এগিয়ে এসেছে 'মানবতা সেবায় আমরা' স্লোগানকে বুকে ধারণ করে।
"ঝরাফুল" পরিবারের সকলের সহযোগীতায় সমাজের অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য যতটুকু করতে পারছে তা হয়তো বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য, তবুও "ঝরাফুল" সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসাবে সমাজের দূ:,দরিদ্র অসহায় সুবিধাবঞ্চিত শিশু তাদের পরিবারের কল্যাণে সচ্ছতার সাথে দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে যাবে নিরলসভাবে।

দেশের অবহেলিত, অসহায়,সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের স্বার্থে এখনই সময়, আসুন আমরা সকলেই আমাদের ঘুমন্ত বিবেককে জাগ্রত করি। তাই কবি নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে চাই..

"আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে,
তোমার ছেলে উঠলে মাগো রাত পোহাবে তবে"



ফয়সাল মাহমুদ
সাধারণ সম্পাদক

"ঝরাফুল" সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন
০১৯১৪ ৬২ ৫১ ৬৫
www.jhoraful.com

1 comment:

  1. মাশাআল্লাহ্ আপনাদের ভাল কাজ গুলো তে আল্লাহ রহমত দান করুক।

    ReplyDelete

Powered by Blogger.